বৈদিক যুগের ব্যবহৃত শব্দের অর্থ তালিকা

প্রিয় পাঠক,
ইতিহাসের পাতায় বৈদিক যুগ এক অনন্য অধ্যায়। প্রাচীন ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল গবাদি পশু এবং কৃষি। আর এই কারণে তৎকালীন ভাষা ও শব্দভাণ্ডারেও এর গভীর প্রভাব দেখা যায়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বৈদিক যুগের পরিভাষা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।

​আজকের পোস্টে আমরা বৈদিক সভ্যতায় ব্যবহৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দ এবং তাদের আসল অর্থ নিয়ে আলোচনা করব। একদম শেষে দেওয়া লিংক থেকে আপনি এর ফ্রি পিডিএফ (PDF) নোটটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

বৈদিক যুগের ব্যবহৃত শব্দের অর্থ তালিকা

বৈদিক যুগের ব্যবহৃত শব্দের অর্থ তালিকা

শব্দ বাংলা অর্থ
গোপা/রাজন প্রধান বা শাসনকর্তা
গ্রামণী গ্রামের প্রধান
কুলপ পরিবারের প্রধান
নিষ্ক ও মনা মুদ্রার নাম
খাদি আংটি
গধুমা গম
গোমি বীণা
অক্ষ জুয়া
ভাগদূথ কর আদায়কারী
শ্রেষ্ঠি ধনী ব্যক্তি
কুশীদা ঋণ
কুশিদিন ঋণদাতা
সারাভা হাতি
সিরা লাঙ্গল
সিতা লাঙ্গল রেখা
গাভিষ্টি গরুর জন্য যুদ্ধ
আঘাতি বাদ্যযন্ত্র
সমনা মেলা
নৃতা নর্তক
নৃতু নর্তকী
উপনা চটি
দত্রা বা শ্রিনি কাস্তে
কর্ণসোভানা দুল
বাস নিন্মাঙ্গের পোশাক
অধিবাস উর্ধাঙ্গের পোশাক
মৌলি পাগড়ি
সূত রাজকীয় ঘোষক
আমাজু সারাজীবন অবিবাহিত নারী
ভিশাকা ডাক্তার বা বৈদ্য
ভাগাদুঘ ছুঁতোর
কুলালা কুমোর
রজয়িত্রী রং প্রস্তুতকারক
উর্দারা শস্য মাপার পাত্র
বৃহি বা সালা ধান

​বৈদিক যুগের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শব্দার্থ

গোপা/রাজন: উপজাতির প্রধান বা শাসনকর্তা।

গ্রামণী: বৈদিক যুগের গ্রামের প্রধানকে বলা হতো।

কুলপ: পরিবারের প্রধান বা অভিভাবক।

ব্রজপতি: চারণভূমি বা গোচারণ ক্ষেত্রের দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তা।

ভাগদুগ: রাজস্ব বা কর আদায়কারী কর্মকর্তা।

অক্ষবাপ: রাজকীয় পাশা খেলার হিসাবরক্ষক।

বলি (Bali): প্রারম্ভিক বৈদিক যুগে রাজাকে দেওয়া স্বেচ্ছামূলক উপহার (পরবর্তীকালে এটি বাধ্যতামূলক কর হয়ে দাঁড়ায়)।


অর্থনৈতিক ও সামাজিক শব্দার্থ (কৃষি ও পশুপালন)

​গবিষ্ট (Gavishti): ঋগ্বৈদিক যুগে গরুর খোঁজ বা গরুকে কেন্দ্র করে হওয়া যুদ্ধ।

​অঘ্ন্যা (Aghnya): যাকে কোনোভাবেই হত্যা করা যাবে না (অর্থাৎ, গরু)।

​গোমত (Gomat): বৈদিক যুগের ধনী ব্যক্তি, যার কাছে প্রচুর গরু থাকত।

​দুহিত্র (Duhitr): কন্যা বা মেয়ে (যে গরুর দুধ দোহন করত)।

​সীতা (Sita): লাঙল চষার পর জমিতে যে মাটির রেখা বা দাগ তৈরি হতো।

​লাঙ্গল/সির: চাষের কাজে ব্যবহৃত লাঙল।

​খিল্ল: উর্বর জমির মাঝে থাকা পতিত বা অনুর্বর জমি।

​মুদ্রা ও অলঙ্কার সংক্রান্ত শব্দার্থ

​নিষ্ক (Nishka): বৈদিক যুগের এক ধরণের স্বর্ণালঙ্কার, যা পরবর্তীতে মুদ্রা হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

​শতমান (Satamana): তৎকালীন সময়ে ব্যবহৃত রৌপ্য মুদ্রা বা পরিমাপের একক।

​কৃষ্ণল: ওজন পরিমাপের একটি প্রাচীন একক।

বৈদিক যুগের পরিষদ (Assembly)

​সভা (Sabha): সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠ ও অভিজাত শ্রেণির মানুষদের নিয়ে গঠিত ছোট পরিষদ।

সমিতি (Samiti): সাধারণ জনগণের কেন্দ্রীয় জনসভা, যেখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও রাজা নির্বাচন হতো।

বিধাত (Vidhata): ঋগ্বৈদিক যুগের প্রাচীনতম সাধারণ পরিষদ, যেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামরিক আলোচনা হতো।

আপনাদের পড়ার সুবিদার্থে নিচে পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড লিংক দেওয়া হলো


আমাদের এই পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। চাকরি সংক্রান্ত তথ্য ও পিডিএফের জন্য আমাদের পেজ ভিজিট করুন।

Tags

Top Post Ad

Below Post Ad